মাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না: খবর পেয়ে ২৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে বাড়ি এলো ছেলে

ঢাকায় কর্মস্থলে ছিলেন সোহেল আহমেদ। হঠাৎ খবর পান তার মা নিখোঁজ। এরপর আর স্থির থাকতে পারেননি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে চলমান সবচেয়ে কঠোর লকডাউনের মধ্যেই ২৩০ কিলোমিটার সাইকেল চালিয়ে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় নিজ বাড়ি পৌঁছে যান তিনি।

শনিবার রাত থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা সাইকেল চালিয়ে রোববার কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের লঙ্গুরপাড় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছান সোহেল আহমেদ। নিখোঁজ হাজেরা বিবি ওরফে কুঠিল ওই গ্রামের মানিক মিয়ার স্ত্রী।

জানা গেছে, বুধবার রাতে একই গ্রামে বড় ভাই আসিদ আলীর বাড়ি থেকে রাতের খাবার খেয়ে প্রতিবেশী রকিব মিয়ার বাড়িতে রাতযাপন করেন হাজেরা বিবি।

বৃহস্পতিবার ভোরে ঘুম থেকে উঠে রকিব মিয়ার স্ত্রীকে চা বানানোর কথা বলে ঘর থেকে বেরিয়ে যান। রকিব মিয়ার স্ত্রী চা বানিয়ে আনলেও হাজেরা বিবি আর ফেরেননি। ওইদিন দুপুর পর্যন্ত তিনি বাড়ি না ফেরায় আসিদ আলীকে খবর দেন হাজেরার নাতনি শাম্মী।

আসিদ আলী বলেন, শাম্মীর মুখে আমার বোনের বাড়ি না ফেরার খবর শুনে তার বাড়িতে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি দরজায় তালা দেওয়া বাইরে বাতি জ্বলছে। গোয়াল ঘরে গাভীগুলো ডাকাডাকি করছে।

তখন আশপাশে খুঁজতে গিয়ে প্রতিবেশী রকিব মিয়ার স্ত্রীর কাছে শুনি আমার বোন রাতে তাদের বাড়িতে ঘুমিয়েছিলেন। ভোরে চা বানিয়ে রাখতে বলে বের হয়ে গেছেন। সব আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে কমলগঞ্জ থানায় জিডি করি। শনিবার ঘটনাটি ভাগনে সোহেল আহমেদকে জানাই।

সোহেল আহমেদ বলেন, মায়ের নিখোঁজ হওয়ার খবর শুনে লকডাউনের মধ্যেই সাইকেল চালিয়ে ঢাকা থেকে বাড়িতে আসি। ১৪ ঘণ্টায় ২৩০ কিলোমিটার পাড়ি দিয়েছি। বাড়ি এসে আশপাশের সবখানে খুঁজেও মায়ের কোনো সন্ধান পাইনি।

সোহেলের খালাতো ভাই সেলিম মিয়া বলেন, প্রায় ২০-২৫ বছর আগে একইভাবে আমার খালু মানিক মিয়াও নিখোঁজ হন। আজ পর্যন্ত তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

কমলগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) সোহেল রানা বলেন, হাজেরা বিবির ভাই আসিদ আলী জিডি করেছেন। আমরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

Continue Reading