খেজুর খান আর মন, মাথা, শরীর সব ভালো রাখুন

আপনার মাঝ রাতে উঠে মিষ্টি কিছু খেতে খুব ইচ্ছে করে কি? ফ্রিজে রাখা চকোলেট বা মিষ্টি বা কোনও ফ্রুট জুস যা বাজার থেকে কিনে এনে রেখেছেন, সেগুলোর প্রতি ঝুঁকে পড়েন? কিন্তু তার বদলে যদি একটা কি দুটো খেজুর খেয়ে নেন তাহলে কিন্তু শেষ পর্যন্ত লাভ আপনারই। খেজুরের যে মিষ্টিভাব, তা থেকে আপনার শরীরে কোনও ক্ষতি হবে না। এতে থাকা ফাইবার আপনার শরীরের অনেক সমস্যাই সারাবে। খেজুর এমন একটি ফল, যা প্রধানত মরু এলাকায় ভাল হয়। প্রতি ১০০ গ্রাম খেজুরে ২৩০ ক্যালোরি শক্তি উৎপাদন হয়। এছাড়াও আর কী কী গুণ রয়েছে এই খেজুরে, জানুন–

কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: আমাদের সকলেরই কম বেশি পেটের সমস্যা হয়ে থাকে। আর সেই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে আমাদের অনেক কিছুই করতে হয়। এমনকি একটা সময়ে কোলনের সমস্যা শুরু হলে সারাজীবন ওষুধ খেয়ে যেতেও হয়। তবে খেজুরে থাকা ‘গুড ব্যাকটিরিয়া’ কোলনের সমস্যা অনেকটাই কমিয়ে দেয়। হজমের সমস্যাও কম হয় এতে, ফলে কোলনও থাকে সুস্থ।

ডিপার্টমেন্ট অফ ফুড অ্যাণ্ড নিউট্রিশনাল সায়েন্সের একটি গবেষণা বলছে যাঁরা প্রতিদিন অন্তত একটা করে খেজুর খান, তাঁদের খারাপ ব্যাকটেরিয়া নষ্ট হয় এবং ভাল ব্যাকটেরিয়া তৈরি হয়, যা কোলনে কোনভাবে ক্যান্সারের কোষ তৈরি হতে দেয় না।

প্রচুর পরিমাণে এনার্জি খুব কম সময়েই পাওয়া যায়: এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি, গ্লুকোজ়, ফ্রুক্টোজ়, সুক্রোজ় খুব দ্রুত আপনাকে এনার্জি দেয়। আপনি যখন এনার্জি ড্রিঙ্ক খাচ্ছেন, বা কোনও চকোলেট বার খাচ্ছেন, তাতে আপনি ফাইবার, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট পাবেন না। কিন্তু খেজুরে পাবেন, তাই এটা আপনার কোনও ক্ষতি না করেই এনার্জি লেভেলকে বাড়িয়ে দেবে তাড়াতাড়িই।

হজম ক্ষমতার উন্নতি করে খেজুর: এক কাপ খেজুরে আপনি ১২ গ্রাম ফাইবার পাবেন, যা আপনার প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় ফাইবারের চেয়ে ৪৮ শতাংশ বেশি। সঠিক পরিমাণে ফাইবার আপনার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করবে সহজেই। ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন বলছে, টানা ২১ দিন রোজ ৭ টা করে খেজুর খেলে সিস্টেম ক্লিয়ার থাকবে সহজেই যা সাধারণত অনেকেরই সমস্যা।

নিজেকে অনেক বেশি বুদ্ধিদীপ্ত লাগবে আপনার: খেজুরে থাকা ভিটামিন বি সিক্স শরীরে সেরিটোনিন এবং নোরেপাইনেফ্রাইন হরমোন বেশি করে তৈরি করে আপনার মগজকে অনেক বেশি তীক্ষ্ণ করে তোলে। গবেষণা বলছে, সেরিটোনিন আপনাকে মানসিকভাবে আনন্দে রাখে, আর নোরেপাইনেফ্রাইন শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ভিটামিন বি সিক্স কমে গেলে মানুষের মধ্যে ডিপ্রেশন কাজ করে। তাই চেষ্টা করতে হবে এই খেজুর থেকেই ভিটামিন বি সিক্স শরীরকে দিতে। তাতে মেজাজও থাকবে ফুরফুরে আর শরীরও থাকবে চাঙ্গা।

কার্ডিও ভাসকুলার সিস্টেমকে উন্নত করে: খেজুরে থাকা পটাশিয়াম সহজেই এলডিএলের মতো খারাপ কোলেস্টরলকে কমিয়ে দেয়। এই এলডিএল হার্টের ব্লকেজ তৈরি করে। ধমনীর সেই ব্লকেজ থেকে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। একটি গবেষণাই বলছে যে, একজন বয়স্ক মহিলার স্ট্রোক এবং ইসকিমিক হার্ট ডিসিজ়ের সম্ভাবনা অনেকটাই কমে গেছে সঠিক পরিমাণে পটাশিয়াম নেওয়ার জন্য, তাও সেটা এই ছোট্ট ফল থেকে পাওয়া পটাশিয়ামের ফল।

হেমোরয়েডজ এর উপশম: পায়ু বা মলদ্বারের শিরা ফুলে শক্ত হয়ে যাওয়াকে হেমোরয়েডজ বলা হয়। এটা খুবই কষ্টদায়ক। ব্যথা তো হয়ই, অনেক ক্ষেত্রে রক্তপাতও হয়। এর একটা বড় কারণ কোষ্ঠকাঠিন্য। এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে এর খানিকটা উপশম সম্ভব। অনেক ডাক্তারই মনে করেন, যে ধরণের খাবারে ফাইবার বেশি, তা খেলে এই সমস্যা কমে। এবং এখানেই খেজুরের মাহাত্ম্য। অর্থাৎ খেজুর হেমোরয়েডজ সরানোর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। অতএব এই ছোট্ট ফলটির জন্য সামান্য টাকা খরচ করুন, আর দীর্ঘ দিন সুস্থ থাকুন।