করোনার সঙ্গে লড়ছে ২০৮ দেশ

নভেল করোনাভাইরাসের সঙ্গে লড়ছে বিশ্বের ২০৮টি দেশ ও অঞ্চল। এসব দেশ ও অঞ্চলে প্রতিদিনই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে রোগী ও আক্রান্তের সংখ্যা। ইতোমধ্যে করোনার ছোবলে বিপর্যস্ত ইতালি, স্পেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ। যুক্তরাষ্ট্রে এটি আরও ভয়ঙ্কর রূপ নিতে যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। খোদ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশবাসীকে সামনের ‘কঠিন দুই সপ্তাহের’ জন্য প্রস্তুত থাকতে বলেছেন। এ সময়ের মধ্যে বহু মানুষের মৃত্যু হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় নিউইয়র্কে ১ হাজার সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সময় রোববার রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ওয়ার্ল্ডওমিটারসের তথ্য অনুযায়ী- বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৬৬ হাজার ৫০২ জন, আক্রান্ত হয়েছেন ১২ লাখ ২৫ হাজার, আর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন ২ লাখ ৫৪ হাজার।

যুক্তরাষ্ট্রে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তের সংখ্যা ৩ লাখ ১২ হাজারের বেশি। মৃত্যু ছাড়িয়ে গেছে ৮ হাজার। সুরক্ষা উপকরণ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের চাহিদা মেটাতে দেশটির বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও হাসপাতালকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। শুধু নিউইয়র্কেই আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ১৪ হাজার ছাড়িয়ে গেছে, মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে তিন হাজার, যা প্রথম আক্রান্ত দেশ চীনের চেয়েও বেশি।

বিশ্বের শীর্ষ অর্থনীতির দেশে মহামারী দাপিয়ে বেড়ালেও ইতালি ও স্পেনে মৃত্যুহার কিছুটা কমেছে। ইতালিতে শনিবার ৬৮১ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে দেশটির বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগ। ২৩ মার্চের পর দেশটিতে একদিনে এটিই সবচেয়ে কম মৃত্যু। ইতালিতে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে থাকা গুরুতর রোগীর সংখ্যাও কমেছে। তবে ইউরোপের এ দেশটিতেই মৃত্যুর সংখ্যা অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। শনিবার পর্যন্ত ইতালিতে ১৫ হাজার ৩৬২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনাভাইরাস; আক্রান্তের সংখ্যা এক লাখ ২৪ হাজারেরও বেশি।

মৃত্যু-আক্রান্তের সংখ্যা কমছে স্পেনেও। শনিবার দেশটিতে ৮০৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা আগের দুই দিনের চেয়ে কম। মোট আক্রান্তের সংখ্যায় স্পেন ইতালিকে ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির এক লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষের দেহে করোনাভাইরাস ধরা পড়েছে; মৃতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ১২ হাজার। পরিস্থিতি মোকাবেলায় দেশজুড়ে লকডাউনের মেয়াদ আরও তিন সপ্তাহ বাড়িয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ।

ফ্রান্সে মৃতের সংখ্যা সাড়ে ৭ হাজার পেরিয়ে গেছে। বিভিন্ন নার্সিং হোমগুলোতে পড়ে থাকা মৃতদেহ যোগ করায় গত কয়েক দিনে দেশটিতে মৃতের সংখ্যায় বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে যুক্তরাজ্যেও। ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে ৭০৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত যুক্তরাজ্য ও এর নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডে ৫ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ডিসেম্বরের শেষদিকে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহর থেকে ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও গত কিছুদিন ধরে দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা অনেকখানি কমে এসেছিল। শনিবার দেশটি করোনাভাইরাসে মৃতদের স্মরণে রাষ্ট্রীয় শোক পালন করেছে।

এশিয়ার অন্যতম করোনাভাইরাস আক্রান্ত দেশ ইরানে আক্রান্তের সংখ্যা ৫৮ হাজার ছাড়িয়েছে। সেখানে মারা গেছেন সাড়ে ৩ হাজারের বেশি মানুষ। সৌদি আরবে আক্রান্তের সংখ্যা দুই হাজার ৩৭০ জন, মৃতের সংখ্যা ২৯ এবং সুস্থ হওয়া রোগীর সংখ্যা ৪২০ জন। ইসরাইলে আক্রান্তের সংখ্যা আট হাজার ১৮ জন, মৃতের সংখ্যা ৪৬ জন, সুস্থ হয়েছেন ৪৭৭ জন।

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও ইন্দোনেশিয়ায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ছে। মালয়েশিয়ায় আক্রান্তের সংখ্যা তিন হাজার ৪৮৩ জন, সুস্থ হয়েছেন ৯১৫ জন। ভারতে আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৩ হাজার পেরিয়ে গেছে। রোববার পর্যন্ত দেশটিতে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জনের।

কঠিন দুই সপ্তাহের মুখে যুক্তরাষ্ট্র : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলায় চলতি এবং আগামী সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য সর্বোচ্চ কঠিন হয়ে দাঁড়াবে। এই দুই সপ্তাহে অনেক মানুষ মারা যাবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। শনিবার করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে হোয়াইট হাউস থেকে দেয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। একই সঙ্গে সামনের কয়েক সপ্তাহ যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কী অপেক্ষা করছে, সেটিরও একটি মূল্যায়ন দিয়েছেন তিনি। কোভিড-১৯-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি রাজ্যের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি জানান, প্রয়োজনে মার্কিন প্রশাসন প্রচুর সামরিক কর্মকর্তা, হাজার হাজার সেনা, চিকিৎসাকর্মী ও পেশাদারদের মোতায়েন করবে। ইতোমধ্যে নিউইয়র্কে ১ হাজার সেনা মোতায়েনের ঘোষণা দেন তিনি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি মেডিকেল সামগ্রী অন্য দেশে রফতানি করা যাবে না বলে নির্দেশ জারি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, স্থানীয় চাহিদা মেটাতে আমাদের এখনই এসব সামগ্রীর দরকার। আমাদের অবশ্যই এগুলো পেতে হবে।