‘ঈদ এবার বানের পানিত বাসি গেইছে’

ঈদুল আজহার আনন্দ নেই তিস্তাপাড়ের ছিন্নমূল পরিবারের সদস্যদের। নদী ভাঙন আতংকে নির্ঘুম রাত কাটছে তাদের। গত বছর কোরবানি দিলেও এ বছর করো’নায় কর্মহীন মানুষগুলো কোরবানির পশু কিনতে পারছেন না।

এরই মাঝে জুন মাসের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত থেমে থেমে কয়েক দফায় ব’ন্যায় প্লাবিত হয়েছে লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজে’লার মানুষ। চলতি মাসে পাঁচবার ব’ন্যার কবলে পড়ে জে’লার প্রায় ৩০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। গত সপ্তাহে ব’ন্যা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটলেও দুর্ভোগ কমেনি।

শুক্রবার তিস্তা নদীর বামতীর লালমনিরহাটের আদিতমা’রীর কুটিরপাড় গ্রামের সহির উদ্দিনের স্ত্রী’ কাচুয়ানী বেওয়ার নিকট ঈদ প্রস্তুতি স’ম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, একমাস থাকি বানের পানিত ডুবি আছি। কায়ো খবর নেয় নাই। নদীর সঙ্গে বাড়ি কোনবেলা (কখন যে) ভাঙ্গি যায়। সেই চিন্তায় নিন্দ (ঘুম) হয় না। হামা’র (আমাদের) কি আরো ঈদ আছে বাহে?। ঈদ এবার বানের পানিত বাসি গেইছে।

তিস্তার বামতীর সদর উপজে’লার চর গোকুন্ডা, খু’নিয়াগাছ, আদিতমা’রীর কুটিরপাড়, চন্ডিমা’রী, বালাপাড়া, বাহাদুরপাড়া, কালীগঞ্জের আমিনগঞ্জ, হাতীবান্ধার গড্ডিমা’রী, সানিয়াজান, সিংগিমা’রী, হলদিবাড়ি চর ও পাটগ্রামের বহুল আ’লোচিত দহগ্রামে নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন আতংকে রয়েছে এসব এলাকার নদীপাড়ের হাজারো পরিবার। এসব পরিবারে ঈদের আনন্দ মলিন হয়েছে ব’ন্যা আর ভাঙন আতংকে।

চন্ডিমা’রী গ্রামের অজিয়ার রহমান ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, নদীর ভাঙনে ঘর খুলে রাস্তায় চারদিন ধরে ফেলে রেখেছি। খাওয়া ও রান্নার উপায় নেই। সেখানে কোরবানি কি? আর ঈদের আনন্দই বা কি? কেউ যদি মাংস দেয় তাহলে খাওয়া হবে। না দিলে ঈদের দিনেও ভর্তা ভাত জোটবে কি না জানি না।

কুটিরপাড় গ্রামের আবুল কাসেম ডেইলি বাংলাদেশকে জানান, প্রায় একমাস ধরে পানিবন্দী রয়েছেন। পানিতে থেকে হাতে পায়ে ঘা হয়েছে। করো’নায় কর্মহীন হওয়ায় অর্থ ক’ষ্টের মাঝে ব’ন্যায় জমানো টাকা সব শেষ। শতক’ষ্টের মাঝেও গত বছর কোরবানি করেছেন।

লালমনিরহাটের ডিসি আবু জাফর ডেইলি বাংলাদেশকে বলেন, ব’ন্যা আর ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্থদের সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও আসন্ন ঈদ উল আজাহার জন্য দুস্থদের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করা হয়েছে।\