ছয় সদস্যের পরিবারে ৩ প্রতিব’ন্ধী, ৩ বিধবা, ভাতা পায় না কেউ

ছয় সদস্যের পরিবার। এদের মধ্যে পুরুষ তিনজনই প্রতিব’ন্ধী, বাকি তিনজন বিধবা। এদের কেউই ভাতা পান না বলে অ’ভিযোগ করেছেন বরগুনার বেতাগীর ভুক্তভোগী পরিবারটির গৃহকর্তী ময়ুরজান।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজে’লার বুড়ামজুম’দার ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের একই পরিবারের ছয় সদস্যের তিনজনই শারীরিক প্রতিব’ন্ধী। পরিবারের তিনজন নারীর সবাই বিধবা।

গৃহকর্তী ময়ুরজান ছাড়াও এই পরিবারে আছেন রিজিয়া (৬৫), নূরজাহান (৫০), রত্তন (৬০), সুমন (৩০) ও সোহাগ (২৫)। এদের নেই জাতীয় পরিচয়পত্র, নেই জন্মসনদ। এদের কেউ শারীরিক ও বাক প্রতিব’ন্ধী এবং বিধবা হলেও পায় না কোন ধরনের ভাতা।

ময়ুরজানের মে’য়ে নূরজাহানের ভিক্ষার টাকায় চলে সংসার। কোনদিন ভিক্ষা করে না আনতে পারলে অভুক্ত বা অর্ধাহারে দিন কা’টাতে হয় তাদের।

নূরজাহান জানান, ভিক্ষার টাকায় আর সংসার চালাতে পারছেন না। পরিবারের সদস্যদের যেকোন ভাতার আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।

ময়ুরজান বলেন, ‘বছরের পর বছর খালি নামই নেয় এহন পর্যন্ত মোগো কেইউরেই ভাতার নাম দেয় নাই। মোর মাইয়ার এ্যাল্লা চাইয়া চিন্তা মোগো ব্যায়াককেরে খাওয়াইতে পারে না।’

সরকারের বিভিন্ন ধরনের ভাতার মধ্যে কেন এই পরিবারের সদস্যরা কোন ভাতা পায় না এমন প্রশ্নের জবাবে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সৈয়দ গো’লাম রব শুক্কুর মীর বলেন, এদের কারো জন্মসনদ বা জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকায় কোন ভাতায় নাম দিতে পারিনি। তবে ভিজিডিতে নূরজাহানের নাম দিয়েছিলাম তাও গেল বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে।

কেন তাদের পরিচয়পত্র হলো না এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আগের জনপ্রতিনিধিরা কোন খোঁজ নেয়নি।

উপজে’লা সমাজ সেবা কর্মক’র্তা শাহিনুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তালিকা করার দায়িত্ব জনপ্রতিনিধির। আমা’র কাছে আসলে আমি প্রতিব’ন্ধী ভাতার কার্ড করে দেব।