আল্লাহর চেয়ে বড় আর কেউ নেই : শোয়েব আখতার

প্রকৃতি কতই না সুন্দর। কী অপরূপ। এই ফুলটিই জ্বলন্ত প্রমাণ। প্রথম দেখাতেই মন জুড়িয়ে যায়। এই ফুলের স্নিগ্ধতা বিষন্ন মনকে আনন্দে ভরে দিতে পারে! ক্রিকেট ইতিহাসের সবচেয়ে দ্রুতগতরি বোলার শোয়েব আখতার কিছুদিন আগে নিজের ভেরিফায়েড পেজে নয়নাভিরাম একটি ফুলের ছবি পোস্ট করেন।

সেখানে তিনি ক্যাপশনে লেখেন, ‘আল্লাহই সবচেয়ে বড় শিল্পী এবং সর্বশক্তিমান। তিনি প্রতিটি জিনিসকে অপরুপ সুন্দর করে সৃষ্টি করেছেন। তার প্রশংসা না করে উপায় নেই।’ফুলের এই ছবিটি দেখে শোয়েবের মতো মুগ্ধ তার ভক্তরাও। তার আলোচিত ওই টুইটের প্রতিক্রিয়ায় ভারত, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ শোয়েব আক্তারের প্রশংসা করেছেন।

নয়া দিল্লির সৈয়দ ইনতেখাব উল হক নামে একজন লেখেন, মাশাআল্লাহ। এমন সুন্দর একটি ফুলের ছবি পোস্ট করার জন্য শোয়েব বুজদার নামে একজন লেখেন, ‘শোয়েব ভাই আই লাভ ইউ’। তাফহিমা রহমান নামে একজন লেখেন, ‘মাশাআল্লাহ, দুনিয়াবি জীবন নিয়ে ব্যস্ত থাকা সত্ত্বেও আপনি সর্বশক্তিমান আল্লাহর প্রশংসা করেছেন। আল্লাহ বেহশত নসিব করুন’।

পাকিস্তানের হয়ে ১৯৯৭ সাল থেকে ২০১১ পর্যন্ত ক্রিকেট খেলেন শোয়েব আখতার। সময়ের অন্যতম সেরা পেস বোলার ছিলেন এই কিংবদন্তি। তার বোলিংয়ের সামনে বিশ্বের নামিদামি ব্যাটসম্যানরাও রীতিমতো কাপাকাপি করত।

মক্কার মসজিদে হারাম ও মদিনার মসজিদে নববির পর বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এক বিশাল মসজিদ নির্মাণ করছে পাকিস্তানের বাহরিয়া টাউন। বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম এ বিশাল মসজিদটি বর্তমানে নির্মাণাধীন। পাকিস্তানের করাচি শহরের ‘বাহরিয়া টাউন’-এ নির্মিত হচ্ছে এ মসজিদ। মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির পর এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। এখানে সঙ্গে ৮ লাখ লোক নামাজ আদায় করতে পারবে এমন গু’ঞ্জনই শুনা যাচ্ছে।

‘বাহরিয়া টাউন’ রিয়াল স্টেট কোম্পানি তাদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশ করেছে। তারা বলেছে- ‘মক্কার মসজিদে হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববিই হলো বিশ্বের প্রথম ও দ্বিতীয় বৃহত্তম মসজিদ। আর সম্মান ও মর্যাদায় বিশ্বের অন্য কোনো মসজিদই এ দুই পবিত্র মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববির সমকক্ষ নয়। আল্লাহর ইচ্ছায় আমরা পবিত্র দুই মসজিদের পর পাকিস্তানের করাচির ‘বাহরিয়া টাউন’-এ বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মসজিদ নির্মাণ করছি।’

করাচির ‘বাহরিয়া টাউন’-এ নির্মিত এ বিশাল মসজিদের সঙ্গে থাকবে আন্তর্জাতিক ইসলামি ইউনিভার্সিটি, ইসলামিক সেন্টার, মিউজিয়াম এবং গবেষণা কেন্দ্র।

আল্লাহ তাআলা প্রিয় নবী হযরত মুহম্মাদ (সা.) কে সত্যদ্বীনসহ সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ রাসুল হিসেবে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন। নবুয়ত লাভের পর বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) মক্কায় ইসলাম প্রচার শুরু করেন। এতে তাঁর প্রতি নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যায়।

নি’র্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) প্রিয়সঙ্গী হযরত আবু বকর (রা.) কে সঙ্গে নিয়ে আল্লাহর নির্দেশে মদিনার উদ্দেশ্যে ৬২২ খ্রিস্টাব্দের ২২ সেপ্টেম্বর মক্কা ত্যাগ করেন।

প্রিয়নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর আগমন বার্তার সংবাদ পেয়ে মদিনাবাসীগণ আনন্দে আত্মহারা হয়ে ওঠেন। মদিনার সর্বস্তরের মানুষ প্রতিদিন বিশ্বনবিকে অভ্যর্থনা জানাতে মদিনার তিন মাইল অদূরে কুবা পল্লীর হাররা নামক স্থানে জড়ো হতেন। তাঁর দেখা না পেয়ে সবাই হতাশ হয়ে ঘরে ফিরে যেতেন।

একদিন এক ইয়াহুদি তাদের দুর্গের প্রাচীরে ওঠে বহু দূরে মরুভূমির ধূলাবালি উড়তে দেখে মদিনাবাসীকে তাঁর আগমন সংবাদ জানান। সঙ্গে সঙ্গে মদিনাবাসীগণ আনন্দের অতিশয্যে মায়া মমতা ও ভালোবাসায় বিশ্বনবিকে সাদরে বরণ করে নেন।

পিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) মদিনায় এসে সর্ব প্রথম কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.) এর আতিথ্য গ্রহণ করেন। সেখানে তিনি ১৪ দিন অবস্থান করেন। বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) কুলসুম ইবনুল হিদম (রা.)’র খেজুর শুকানোর জায়গায় একটি মসজিদ তৈরি করেন।

এটি ইসলামের ইতিহাসে মুসলমানদের প্রথম স্থাপনা। যা কুবায় স্থাপিত হয়। এটি ঐতিহাসিক মসজিদ। যা ইসলামের প্রথম মসজিদ `কুবা`। মসজিদে কুবা উম্মতে মুহাম্মাদির সর্ব প্রথম মসজিদ। সম্মান ও মর্যাদার দিক থেকে মসজিদে হারাম, মসজিদে নববি এবং মসসিদে আকসার পরই মসজিদে কুবার স্থান।

মসজিদে কুবা সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন, যে মসজিদ প্রথম দিন থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তাকওয়ার উপর (মসজিদে কুবা) -তাই বেশি হকদার যে, তুমি সেখানে নামাজ কায়েম করতে দাঁড়াবে। সেখানে এমন লোক আছে, যারা উত্তমরূপে পবিত্রতা অর্জন করতে ভালবাসে। আর আল্লাহ পবিত্রতা অর্জনকারীদের ভালবাসেন। (সুরা তাওবা : আয়াত ১০৮)

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত মসজিদে কুবাকে অনেকবার সংস্কার ও পূনঃনির্মাণ করা হয়। বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর পর ইসলামের তৃতীয় খলীফা হজরত উসমান (রা.) এর খিলাফতকালে সর্বপ্রথম মসজিদে কুবার সংস্কার ও পূণঃনির্মাণ করা হয়। এরপর বিভিন্ন সময়ে আরো সাত বার এই মসজিদের পূণঃনির্মাণ ও সংস্কার করা হয়।

অনেক পুরনো ও জীর্ণ হয়ে যাওয়ায় সর্বশেষ ১৯৮৬ সালে মসজিদটির পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই মসজিদ পুনর্নিমাণে পুরো মসজিদে এক ধরনের উন্নতমানের সাদা পাথর ব্যবহার করা হয়।

বর্তমানের যে কুবা মসজিদের স্থাপনা রয়েছে, তা অত্যন্ত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশে অবস্থিত। মসজিদটির চার কোনে রয়েছে সুদৃশ্য ৪টি মিনার ও দুই তলা বিশিষ্ট মসজিদে কুবার ছাদে রয়েছে ১টি বড় গম্বুজসহ অপেক্ষাকৃত ছোট ছোট ৫টি গম্বুজ।

তাছাড়া ছাদের অন্য অংশে আছে গম্বুজের মতো ছোটো ছোটো অনেক অবয়ব। চারপাশের খেজুরের বাগান ও বনায়ন মসজিদটির সৌন্দর্য কে করে তুলেছে অতুলনীয়।

যা দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়। সূর্যাস্তের হলদে বিকালে মসজিদটি দেখলে হৃদয় ভরে যায়।মদিনায় মসজিদে নববির দক্ষিণ পশ্চিম দিকে মসিজদে কুবা অবস্থিত। মসজিদে নববি থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৩•২৫ কিঃ মিঃ।

হিজরতের পর বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) মদিনায় ১০ বছর কাটিয়েছেন। এ সময়ে বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) পায়ে হেঁটে কখনো উটে আরোহণ করে কুবা মসজিদে যেতেন এবং সেখানে দুই রাকাআত নামাজ আদায় করতেন।

হযরত উসাইদ ইবনে হুজাইব আল আনসারী (রা.) বর্ণনা করেন, প্রিয় নবী হযরত মুহম্মদ (সা.) বলেছেন, মসজিদে কুবায় এক ওয়াক্ত নামায আদায় করা; সওয়াবের দিক থেকে একটি ওমরা আদায়ের সমতুল্য। (তিরমিজি)

মসজিদে কুবার এ অনন্য সম্মান ও মর্যাদার কারণে বিশ্বনবী হযরত মুহম্মদ (সা.) এর ইন্তিকালের পরও হজরত আবু বকর, হজরত ওমরসহ বিশিষ্ট সাহাবায়ে কিরাম রাদিয়াল্লাহু আনহুম বিশ্বনবির অনুকরণে প্রায়ই মদিনা থেকে মসজিদে কুবায় আসতেন ও তাতে নামাজ আদায় করতেন।

বর্তমানে মদিনায় অনেক সুন্দর সুন্দর মসজিদ রয়েছে। মসজিদে নববির পর সৌন্দর্য্য ও নান্দনিকতার তালিকায় মসজিদে কুবা অন্যতম। ওমরা, হজ ও দর্শণার্থীদের জন্য মসজিদে কুবা সাওয়াব ও সৌন্দর্যের অনন্য প্রতীক। (অনলাইন থেকে সংগৃহীত)