তরুণী কো-পাইলট সতর্ক করেছিলেন, শোনেননি পাইলট, যাত্রীসহ বিমান ড্রেনে!

তিরিশ বছরের ছোট তরুণী কো-পাইলট বার বার সতর্ক করেছিলেন। কিন্তু তাঁর কথায় কান দেননি পাইলট। ল্যান্ড করার পর শেষমেশ বিমান গড়িয়ে গিয়ে পড়ল বড় ড্রেনে! সেই ঘটনায় আহত হয়েছিলেন তিন যাত্রী। ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিমানটিও। ২০১৭-র ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনা।

বৃষ্টির কারণে এমনটা হয়েছে বলেই সে সময় দাবি করেন পাইলট। বিষয়টি নিয়ে ডিজিসিএ তদন্তে নামে। দীর্ঘ ১৮ মাস পর সত্যটা সামনে আসে।

ডিজিসিএ-র তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই দিন তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল কোচিতে। বিমানবন্দরের দৃশ্যমানতাও যথেষ্ট নেমে গিয়েছিল। ১০২ জন যাত্রীকে নিয়ে এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেস-এর আইএক্স ৪৫২ বিমানটি অবতরণ করে কোচি বিমানবন্দরে। আবু ধাবি থেকে আসছিল বিমানটি। বৃষ্টির জন্য দৃশ্যমানতা কম থাকার কারণে মধ্যে বিমানবন্দরে নামতে যথেষ্টই বেগ পেতে হচ্ছিল বিমানের পাইলটকে। সে সময় তাঁকে কো-পাইলট জানান, প্রবল বৃষ্টিতে রানওয়ের মার্কিং দেখতে পাচ্ছেন না। এই অবস্থায় ধীরে ধীরে রানওয়ে ধরে এগনোই ভাল। শুধু তাই নয়, এ রকম অবস্থায় রানওয়েতে বিমানটিকে পথ দেখিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে গাড়ি থাকে তা ব্যবস্থা করার জন্য পাইলটকে জানাতে বলেন। অভিযোগ, পাইলট নাকি তাঁর থেকে ৩০ বছর বয়সের ছোট ওই কো-পাইলটের কোনও সতর্কবার্তাই কানে তোলেননি। ফলে বিমানবন্দরের ট্যাক্সিওয়ের ঠিক আগেই বিমানটি ঘোরাতে গিয়েই বিপত্তি বাধে। বিমানটির সামনে চাকা গিয়ে পড়ে যায় হাইড্রেনে। চাকা আটকে যায় ড্রেনের মধ্যে। ড্রেন থেকে সামনের চাকা বার করতে ‘থ্রটল’ ব্যবহার করেন। এ বারও কো-পাইলট তাঁর সিনিয়র পাইলটকে থ্রটল ব্যবহার করতে নিষেধ করেন। কিন্তু সে কথাও গ্রাহ্য করেননি পাইলট। ফলে বিপত্তি আরও বাড়ে। জোর ঝটকাতে তিন যাত্রী আহত হন। বিমানের সামনের ল্যান্ডিং গিয়ারও ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ডিজিসিএ-র রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, মূল দায়িত্বে থাকা পাইলটের ভুল সিদ্ধান্ত এবং অসহযোগিতার জন্যই এমন ঘটনা ঘটেছে। তাই এ রকম ঘটনা যাতে ভবিষ্যতে না ঘটে সেটা মাথায় রেখে বিমানে পাইলট ও কো-পাইলটের বয়সের ফারাক কমানোর জন্য এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসকে পরামর্শ দিয়েছে ডিজিসিএ।