সঙ্গীর সঙ্গে বিরোধে আত্মহত্যা করেছেন যে মডেল-অভিনেত্রীরা

আত্মহত্যা হচ্ছে কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের জীবন বিসর্জন দেয়া বা স্বেচ্ছায় নিজের প্রাণনাশের প্রক্রিয়া বিশেষ। নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যার হার অনেক বেশি। পুরুষদের আত্মহত্যা করার প্রবণতা নারীদের তুলনায় তিন থেকে চার গুণ।

দাম্পত্য জীবনের কলহ ঘিরে অনেকেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন। বাদ যান না মডেল-অভিনেত্রীরাও। সাম্প্রতিক সময়ের কিছু মডেল-অভিনেত্রীদের আত্মহত্যার ঘটনা তুলে ধরা হলো-

গতকাল নির্মাতা শামীম আহমেদ রনির স্ত্রী ও মডেল ও অভিনেত্রী তমা খান আত্মহত্যা করেছেন। তার মরদেহ ৮ মে তার বোনের বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। সন্ধ্যায় বাসায় ফ্যানের সঙ্গে তমাকে ফাঁস লাগানো অবস্থায় দেখতে পান তার দুই বোন। পরে তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। দীর্ঘদিন ধরেই তমার সঙ্গে ঝামেলা চলছিল শামীম আহমেদ রনির। মাঝে মামলা মোকদ্দমাতেও জড়িয়েছিলেন তারা। শেষ মেষ আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন তমা।

৩১ জুলাই ২০১৭ সাল। দুপুরের দিকে হঠাৎ একটি খবর চাউর হয়ে উঠে। স্বামীকে ফোন কলে রেখে আত্মহত্যা করেছেন এক মডেল ও অভিনেত্রী। তার নাম রিসিলা বিনতে ওয়াজির। পারিবারিক কলহের জের ধরেই আত্মহত্যা করেছিলেন তিনি।

পুলিশ জানিয়েছিল, রিসিলা সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। আত্মহত্যা করার সময় রিসিলা তার স্বামীর সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে ভিডিও কলে কথা বলছিলেন বলে জানিয়েছিল পুলিশ।

একই বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি আত্মহত্যা করেন জ্যাকলিন মিথিলা। সেদিন চট্টগ্রাম মহানগরীর আগ্রাবাদ বারিক বিল্ডিংয়ের নিজ বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছিলেন মডেল জ্যাকলিন মিথিলা। মিথিলা বিবাহিত ছিলেন। তার স্বামীর নাম উৎপল রায়। স্বামীর বাড়ি ফটিকছড়ির ধুরং ইউনিয়নে। স্বামীর সঙ্গে তার প্রায়ই ঝগড়া লাগত। এ ছাড়া সুইসাইড নোটে মিথিলা তার স্বামী ও স্বামীর আত্মীয়স্বজনের নিয়মিত অপমানের কথা লিখে গেছেন এবং এ কারণেই আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে উল্লেখ করেন।

দাম্পত্য কলহ ছাড়াও প্রায় নগ্ন ছবি ফেসবুকে প্রকাশ করে দুই বছর ধরে ব্যাপক বিতর্কের মুখে পড়েন মিথিলা। একটি চলচ্চিত্রে আইটেম গানেও পারফর্ম করেছিলেন তিনি। কিন্তু কোনোভাবেই আলোচনায় আসতে পারছিলেন না তিনি। বেশ হতাশায়ও ভুগছিলেন তিনি। আত্মহত্যার আগে এ মডেলের ফেসবুক ওয়ালে ঢুকে আত্মহত্যা সম্পর্কিত দুটি স্ট্যাটাস পাওয়া গিয়েছিল। একটি ৩০ জানুয়ারি রাত ১১টা ৪৯ মিনিটে দেওয়া। এতে তিনি লিখেন, ‘কালকে আমি আত্মহত্যা করব। কেউ আমাকে প্রত্যাখ্যান করে নাই। আমিও কাউকে প্রত্যাখ্যান করি নাই। কিন্তু আমি আত্মহত্যা করব।’ আবার ৩১ জানুয়ারি সকাল ৭টা ২৮ মিনিটে লিখেছিলেন, ‘ধীরে ধীরে মৃত্যুর পথে পা বাড়াচ্ছি।’

২৪ মে ২০১৬। মঙ্গলবার ভোর ৫টায় মিরপুরের রূপনগরে বাসার ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে আত্মহত্যা করেন মডেল সাবিরা। এই মডেলও আত্মহত্যার আগে ফেসবুক দুটি স্ট্যাটাস ও ভিডিও বার্তা দেন। সাবিরা বেশ কিছু পণ্যের স্থিরচিত্রে মডেল হয়েছিলেন। মডেলিং ছাড়া উপস্থাপনায়ও তাকে দেখা গেছে। পেশাগত জীবনে তিনি গানবাংলা টিভিতে কর্মরত ছিলেন।

সাবিরার ফেসবুক স্ট্যাটাসে সর্বশেষ লিখেছিলেন তার আত্মহত্যার বিষয়টি নিয়ে। সঙ্গে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে চাকু হাতে বারবার পেটে ও গলায় চাপ দেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু কাজ না হওয়ায় নয় মিনিটের ওই ভিডিওর শেষে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যর্থ, আপাতত। ওকে, নেক্সট অ্যাটেম্প নেব।’

১৬ জুন ২০১৬ সালে সিলিংফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেন মডেল সিনহা রাজ। স্বামীর সঙ্গে আর্থিক টানাপোড়েনের জের ধরে সৃষ্ট মনোমালিন্যের ফলেই আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন এই মডেল। এই মডেলের স্বামী অভিনেতা ও পরিচালক অভিজিৎ অভি।