বারবার অবহেলিত হয়ে যা বলে ক্ষোভ প্রকাশ করলেন রুবেল

২০০০ সাল পর্যন্ত ওয়ানডেগুলোতে বাংলাদেশ প্রায় শুরুতেই হেরে বসতো, কারণ প্রতিপক্ষ দলের ওপেনাররা এমন তাণ্ডব শুরু করতো, মনে হতো ৩০০ রান হয়ে যাবে নিশ্চিন্তে।

আর যদি আগে ব্যাটিং করতো, ফিল্ডিংয়ে নেমে ম্যাচে টিকে থাকার আশা প্রথম দশ ওভারেই হারিয়ে ফেলতো। কিংবা স্পিনাররা বেশ কিছু চান্স ক্রিয়েট করতো, কিন্তু ১জন বা ২ জন ব্যাটসম্যান ঠিকই ম্যাচ বের করে নিয়ে যেত।

অথচ, একটা স্পেলে আচমকা ২-৩টা উইকেট নিয়ে হেরে যাওয়া ম্যাচ জিতিয়ে দেয়ার ঘটনা বিশ্ব ক্রিকেটে ভুরিভুরি, এবং এই কাজটা বেশিরভাগ সময় পেসাররাই করে থাকে।

২০০১ এ মাশরাফি আসার পর আমরা একজন সত্যিকারের স্ট্রাইক বোলার পাই, যে ইনিংসের শুরুতে ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারতো। ২০০৭ বিশ্বকাপের পর স্ট্রাইক বোলার মাশরাফিকে হারিয়ে ফেলি,

তার ভূমিকা বদলে যায়, সে হয়ে উঠতে থাকে একজন ইফেকটিভ বোলার; উইকেট পায় নিয়মিতই, কিন্তু সেটা স্ট্রাইক বোলার সুলভ বৈশিষ্ট্যে নয়, ইফেকটিভ বোলার থিওরিতে।

এরপর দলে আসেন রুবেল হোসেন, মাশরাফির মতো অভিষেকের আগেই এন্ডি রবার্টসের কাছ থেকে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা পাওয়া, বা ‘এ’ দলের হয়ে ভারত ট্যুরে গিয়ে ১৪৫ কি:মি:/ঘণ্টা বেগে বল করে আলোচনায় আসা, কিংবা প্রচণ্ড দুরন্তপনার জন্য ‘পাগলা’ খেতাব পাওয়ার সৌভাগ্য জুটেনি;

তাসকিনের মতো দলে ঢোকার আগেই লাখো মানুষের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারেনি, কারণ বিপিএল ছিলো না তখন, কিংবা মোস্তাফিজের মতো এসেই কাটার দিয়ে ব্যাটসম্যানকে বিভ্রান্ত করে খ্যাতি পাওয়া হয়নি, তবু বিপক্ষ দলের জিততে ১২ বলে ১৩ রান লাগবে, ক্রিজে একজন সেট ব্যাটসম্যান,

হাতে আছে ৩ উইকেট- এরকম সমীকরণে বাংলাদেশের কোনো একজন বোলারকে যদি বেছে নিতে হয় বল করতে যে ম্যাচটা জিতিয়ে দিতে পারে, কিংবা ওই ওভারেই হারিয়ে দিতে পারে, একদম নির্দ্বিধায় রুবেল হোসেনকে স্মরণ করতে হবে। এখানেই স্ট্রাইক বোলারের সার্থকতা।

তবে এত সব দূর্দান্ত সবকিছু করার পরেও বরাবরের মতই বাংলাদেশে দলে অবহেলিত রুবেল। তবে তিনি দিনের পর দিন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলে খেলার সুযোগ পাননি । সম্প্রতি স্কোয়াডে যুক্ত হলেও কোনো কারণ ছাড়াই বাদ পড়েন তিনি।

এমতাবস্থায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন এই পেসার। শনিবার (১১ ডিসেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি স্ট্যাটাস দেন।ফেসবুক স্ট্যাটাসে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে বিশেষ একটি প্রতিযোগিতা চলছে, অন্যকে ঠকিয়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতা। ভাইজান এগিয়ে যান কিন্তু কাউকে ধ্বংস করে নয়।’

ডানহাতি এই পেসার গত মার্চে নিউজিল্যান্ড সফরে জাতীয় দলের হয়ে সর্বশেষ ম্যাচ খেলেছিলেন। ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড সফরে সুযোগ পাননি তিনি। বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে দুবাই উড়ে গেলেও কোনো ম্যাচ খেলার সুযোগ পাননি। দেশে ফিরে পাকিস্তান সিরিজ থেকেও বাদ পড়েন তিনি।