ধোনির মত ফিনিশারের ভূমিকা দেওয়া হোক ঋষভকে

সিরিজ়ের প্রথম ওয়ান ডে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে হারার পরে ভারতীয় দল পরিচালন সমিতিকে এখন নিশ্চয়ই ভাবতে হচ্ছে প্রথম এগারো সাজানো নিয়ে। আজ, শুক্রবার দ্বিতীয় ম্যাচে ভারতকে হারালেই ওয়ান ডে সিরিজ় জিতে নেবে দক্ষিণ আফ্রিকা।

যে কোনও দলই হারার পরে প্রথম এগারোয় খুব একটা রদ বদল করতে চায় না। কারণ সেটাকে ভয় পাওয়ারই নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়। ভারতীয় দলের যা গভীরতা, তাতে এখনই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। যে কয়েকটা জায়গা নিয়ে সমস্যা থাকছে, সেগুলো নিয়ে ভাবলেই চলবে। প্রথম ম্যাচটা দেখার পরে দু’টো ব্যাপার নজরে এল। এক, নতুন বলে ভারতের ভেদশক্তির অভাব। দুই, মাঝের সারির ব্যাটারদের মধ্যে একটু সাহসী ব্যাটিংয়ের অভাব।

ভুবনেশ্বর কুমার এবং শার্দূল ঠাকুর দু’জনেই রান দিয়েছে। যদিও শার্দূল পরে ব্যাট হাতে হাফসেঞ্চুরি করে গিয়েছে। তখন অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা চাপ কিছুটা আলগা করেছিল। বেশ কিছু দিন হয়ে গেল, ইনিংসের শেষের দিকে এসে ভুবনেশ্বর আর রান আটকাতে পারছে না। যে কাজটা ও আগে করতে পারত। সামনের বছর ভারতের মাটিতে ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ আছে। তার আগে যদি দলের ভিতটা তৈরি করতে চায় ভারত, তা হলে কাজটা এখন থেকেই শুরু করতে হবে।

এই ওয়ান ডে সিরিজ়টা আইসিসি সুপার লিগের অন্তর্গত নয়। যা এক দিক দিয়ে ভারতের জন্য ভাল। এই সিরিজ়টা হারলেও যোগ্যতা পাওয়ার ব্যাপারে তার কোনও প্রভাব পড়বে না। যদিও ভারতই বিশ্বকাপের সংগঠক দেশ বলে যোগ্যতা অর্জনের ব্যাপারটা এমনিতেই হয়ে যাবে। কিন্তু এই দল সেই রাস্তা দিয়ে ওঠার পক্ষপাতী বলে মনে হয় না। প্রথম ম্যাচে বিরাট কোহলি আর শিখর ধওয়নের মধ্যে দারুণ একটা জুটি হওয়ার পরে মাঝের সারির ব্যাটিং ব্যর্থ হল।

ঋষভ পন্থ এবং দুই আয়ার (শ্রেয়স এবং বেঙ্কটেশ) দলকে জয় এনে দিতে পারল না। সাম্প্রতিক কালে দেখা যাচ্ছে ওয়ান ডে-তে পন্থকে চার নম্বরে খেলানো হচ্ছে। কিন্তু এই জায়গায় খেলতে নেমে ধৈর্য এবং আক্রমণের সঠিক মিশ্রণটা খুঁজে পাচ্ছে না ও। তাই পন্থকে ছ’নম্বরে ফিনিশারের ভূমিকাটা দিয়ে এক বার দেখা যেতেই পারে। যেখানে ও পরিস্থিতির কথা মাথায় না রেখে ইচ্ছেমতো শট খেলতে পারবে।

পার্লের ব্যাটিং উইকেটে ভারতের দুই স্পিনার— আর অশ্বিন এবং যুজ়বেন্দ্র চহাল যথেষ্ট ভাল বল করল। এই অঞ্চলে যা গরম পড়েছে, তাতে দুই স্পিনার কিন্তু সিরিজ়ের শেষ দু’টো ম্যাচে বড় ভূমিকা নিতে পারে। দুরন্ত গতিতে এখন ছুটছে দক্ষিণ আফ্রিকা। ভারতকে তাই ব্যাট আর বল— দু’টো দিয়েই প্রাচীর তৈরি করতে হবে। না হলে দক্ষিণ আফ্রিকা কিন্তু উড়িয়ে নিয়ে যাবে। (টিসিএম)