প্রেমিকের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অনশনে স্কুলছাত্রী

ঢাকার ধামরাইয়ে বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসেছে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী। প্রেমিক পালানোর চেষ্টা করলে ওই প্রেমিকা তাকে জনতার সহায়তায় আটক করে। উপজেলার আমতা ইউনিয়নের নান্দেশ্বরী গ্রামের এ ঘটনা সমাধান করতে কয়েক দফা বৈঠক করেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি জনপ্রতিনিধি ও মাতবররা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উপজেলার আমতা ইউনিয়নের বাউখন্ড গ্রামের এছাক আলীর মেয়ে ও সাটুরিয়া উপজেলার উত্তর কাউন্নারা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী সোনিয়া আক্তারের সঙ্গে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে পাশের নান্দ্বেরী গ্রামের ভ্যানচালক নাসির উদ্দিনের ছেলে আব্দুল কাইয়ুম হোসেন। সম্প্রতি কাইয়ুম ওই স্কুলছাত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। এরপর ওই স্কুলছাত্রী যোগাযোগের চেষ্টা করলে রাস্তাঘাটে জনসমক্ষেই বেধড়ক মারধর ও প্রত্যাখ্যান করে কাইয়ুম। শনিবার বিকালেও তাকে মারধর করে কাইয়ুম। ফলে সে বিয়ের দাবিতে ওই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে কাইয়ুমের বাড়িতে অনশন শুরু করে।

এরপর কাইয়ুম পালিয়ে যেতে উদ্যত হলে ওই প্রেমিকা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে আটক করে। পরে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোসলেম উদ্দিন ও মাতবর রমজান আলীর নেতৃত্বে স্থানীয় মাতবর ও জনপ্রিতিনিধিরা রাত ও দিনভর বৈঠকে বসেও কোনো সুরাহা করতে পারেননি।

প্রেমিকা সোনিয়া আক্তার জানায়, সাত মাস আগে ফেসবুকে কাইয়ুমের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরে মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। একপর্যায়ে সে বিয়ের আশ্বাস দিলে তারা আরও ঘনিষ্ঠ হয়। মাঝে-মধ্যে দুজনই বিভিন্ন স্থানে দেখা করত ও বেড়াতে যেত। পরে বিষয়টি উভয় পরিবার জেনে যায়। এখন কাইয়ুম তার সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয় ও যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে তাকে রাস্তাঘাটে মানুষের সামনেই মারধর করে কাইয়ুম। ফলে নিরূপায় হয়েই তার বাড়িতে এসে অনশনে বসে সে। বিয়ে না করা পর্যন্ত সে অনশন চালিয়ে যাবে বলে ঘোষণা দেয়।

প্রেমিক কাইয়ুম বলেন, আমার সঙ্গে ওর কোনো প্রেমের সম্পর্ক নেই। এক মাস সম্পর্কের পর আমাদের ‘ব্রেকাপ’ হয়ে যায়। সোনিয়া আমার কাছে টাকা পাইত। টাকা নিতে আমাদের বাড়িতে এসে আর যাচ্ছে না। এখন বলছে তাকে আমার বিয়ে করতে হবে। নইলে আমার বাড়ি থেকে সে যাবে না।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোসলেম উদ্দিন জানান, বিষয়টি জানার পর শনিবার সারারাত ও রোববার দিনভর উভয়পক্ষের সঙ্গে বৈঠক করেও কোনো সমাধান করা যায়নি। কেউ কোনো কথা শুনছে না।কাওয়ালীপাড়া বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. রাসেল মোল্লা বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।