ইউক্রেন নাকি রাশিয়া, কার পক্ষে মুসলিম বিশ্ব

By | March 7, 2022

ইউক্রেনে সেনা অভিযানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে রাশিয়ার ১০ ব্যক্তির ওপর বিশেষ নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন কানাডা। ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানকে ঘিরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ ইউরোপীয় দেশগুলো একাট্টা হলেও যুদ্ধ-বিরোধী মনোভাব নিয়ে সারা বিশ্বই যে সেই মোর্চায় যুক্ত হয়ে পড়েছে- বাস্তবে তেমনটি ঘটেনি।

আবার রাশিয়ার প্রতি সহানুভূতিশীল রাষ্ট্রগুলো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে পশ্চিমাবিরোধী আরেকটি জোটও গড়ে তোলেনি। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলো আর রাশিয়ার মুখোমুখি অবস্থানের অনেক দেশই নিজেদের মতো করে ভিন্ন অবস্থান নিয়েছে। খবর ডয়চে ভেলের।

ভিন্ন অবস্থানে থাকা দেশগুলোর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অবস্থান অত্যন্ত কৌতূহলোদ্দীপক। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কারো কারো সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মাখামাখি, কারো কারো সঙ্গে সীমাহীন বৈরিতা- বিশ্বব্যাপী নতুন একটি অস্থির পরিস্থিতিতে কী ধরনের প্রভাব ফেলে সেদিকে সবারই কৌতূহলী দৃষ্টি ছিল।

বিশেষ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ‘শাস্তিমূলক পদক্ষেপ’ আর বিরোধিতায় নাস্তানাবুদ হওয়া ইরান কী ধরনের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তা নিয়েও কৌতূহলের কমতি ছিল না।

তবে বাস্তবতা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো, বিশেষ করে প্রভাবশালী দেশগুলো এক ধরনের ভারসাম্যমূলক অবস্থানে নিজেদের সীমিত রেখেছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। সিরিয়া বরাবরের মতোই রাশিয়াপন্থি হিসেবে অবস্থান নিয়েছে। রাশিয়ার হয়ে রাশিয়ার সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধে শামিল হতে সিরিয়া প্রস্তুত- এমন একটি বার্তা তারা আগেভাগেই দিয়ে রেখেছিল।

লেবানন এবং কুয়েত- দুটি দেশই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের দখলের শিকার হয়েছে এবং তাদের অবস্থান প্রতিবেশী দেশকর্তৃক অন্য দেশ দখল চেষ্টার বিপক্ষে। আরব দেশগুলোর মধ্যে লেবাননই সম্ভবত একমাত্র দেশ, যারা সরাসরি বিবৃতি দিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযানের সমালোচনা করেছে।

এক প্রতিক্রিয়ায় বৈরুতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিলেন, দুঃসময়ে কারা আমাদের পক্ষে থাকে, কারা বিরোধিতা করে সেটা আমরা সবসময় মনে রাখি। আর কুয়েত জাতিসংঘের অধিবেশনে দেয়া বক্তৃতায় সরাসরি রাশিয়াকে ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের প্রতিবাদ জানিয়ে বক্তৃতা করেছে।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের শক্তিশালী দেশগুলোর প্রায় সবার অবস্থানই অনেকটা বেড়ায় বসে বসে পরিস্থিতি অবলোকন করার মতো। তারা সরাসরি রাশিয়ার বিরোধিতায় নামছে না, আবার যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষেও সোচ্চার হয়ে উঠছে না।

এদের মধ্যে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), সৌদি আরব এবং মিশর। এই তিনটি দেশেরই যুক্তরাষ্ট্রের নানা ধরনের টানাপড়েন আছে। আবার মধ্যপ্রাচ্যের অনেক সরকার প্রধানের সাথেই রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বিদ্যমান। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বিদ্যমান এই বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে কৌশলী অবস্থান নিচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন।