আল্লাহু আকবার ধ্বনি’সর্বোত্তম শব্দ’

বরকতময় এক মহান কালেমা হলো আল্লাহু আকবার ধ্বনি। যে ধ্বনির মধুরতায় মুখরিত পুরো বিশ্বের অলি-গলি। সেই ধ্বনির প্রভাব বলয়ে মুমিনের চিত্ত হয় প্রশান্ত। ওমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) বলেন, আল্লাহু আকবার দুনিয়ার শ্রেষ্ঠ বাক্য। (তাফসিরে কুরতুবি, সুরা ইসরা, আয়াত : ১১১)

এই ধ্বনি এই বার্তা প্রকাশ করে যে, আল্লাহ তাআলা সবচেয়ে বড়। তার চেয়ে বড় কেউ নেই। শক্তি-সামর্থের সম্মান সবদিক থেকেই মহান আল্লাহ সবার ঊর্ধ্বে। আল্লাহু আকবার এমন এক মহান শব্দ যে ধ্বনি শুনে শয়তান পালায়ন করে, লজ্জিত হয়, নিন্দিত হয়।

মহান আল্লাহর বড়ত্ব ও মহিমা বর্ণনার সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম শব্দ এই আল্লাহু আকবার ধ্বনি। এই শব্দ উচ্চারণের মাধ্যমে মুমিন বান্দা তার প্রভুর প্রতি বিশ্বাসের প্রকাশ ঘটান এবং রবের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক গড়ে তোলেন। যে মুমিনের অন্তরে তাকবিরের মাহাত্ম্য ও গুরুত্ব যত বেশি হবে, তার ঈমানের প্রভাব তত বেশি প্রতিফলিত হবে। তাই ইসলামী শরিয়তে আজান ও নামাজের পাশাপাশি বছরের বিভিন্ন সময় ও জীবনঘনিষ্ঠ নানা অনুষঙ্গে তাকবির পাঠের বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।

আল্লাহু আকবার বলার কিছু উপকারি দিক-

আল্লাহু আকবার বলার কারণে শয়তান দূর হয়

তাকবির তথা আল্লাহু আকবার হলো এমন একটি বাক্য, যা কাফির এবং তাদের নেতৃবৃন্দ ও ইবলিসের মনে প্রচণ্ড কম্পন সৃষ্টি করে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী (সা.) বলেন, শয়তান যখন সালাতের আজান তথা (আল্লাহু আকবারের আওয়াজ) শুনতে পায়, তখন বায়ু ছাড়তে ছাড়তে পালাতে থাকে, যেন আজানের শব্দ তার কানে পৌঁছতে না পারে। মুয়াজ্জিন যখন আজান শেষ করে তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীর) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। সে পুনরায় যখন ইকামাত শুনতে পায়, আবার চলে যায় যেন এর শব্দ তার কানে না যেতে পারে। যখন ইকামাত শেষ হয় তখন সে ফিরে এসে (সালাত আদায়কারীদের অন্তরে) সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করতে থাকে। (মুসলিম, হাদিস : ৭৪২ )

যুদ্ধের ময়দানে আল্লাহু আকবারের প্রভাব

এক বর্ণনায় বসনিয়ার যুদ্ধে মুজাহিদদের অবস্থানের কথা এভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যখন মুজাহিদরা ময়দানে আসতেন এবং আল্লাহু আকবার বলে ধ্বনি উচ্চারণ করতেন। আল্লাহর শপথ! তখন বিপুল পরিমাণে যুদ্ধাস্ত্র থাকা সত্ত্বেও সে অঞ্চলে একটা মুশরিক পুরুষ পাওয়া যেত না।

সহিহ বুখারির বর্ণনায় আছে, আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রাসুল (সা.) অতি সকালে খায়বার প্রান্তরে প্রবেশ করেন। সে সময়ে ইহুদিরা কাঁধে কোদাল নিয়ে বেরিয়ে পড়েছে। তারা যখন তাকে দেখতে পেল, তখন বলতে লাগল, মুহাম্মদ সেনাদলসহ আগমন করেছে, মুহাম্মদ সেনাদলসহ আগমন করেছে ফলে তারা দুর্গে ঢুকে পড়ল। তখন আল্লাহর রাসুল (সা.) তার উভয় হাত তুলে বললেন, ‘আল্লাহু আকবর, খায়বার ধ্বংস হোক।’ (বুখারি, হাদিস : ২৯৯১)

খুশির সংবাদে আল্লাহু আকবার বলা সুন্নত

যে কোনো বৈধ খুশির সংবাদ শুনে আল্লাহু আকবার বলা সুন্নত। সাহাবায়ে কেরাম খুশির সংবাদ শুনে আল্লাহু আকবার বলতেন। সহিহ বুখারির এক দীর্ঘ বর্ণনায় এসেছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) একবার সাহাবাদের বলেন, আমি আশা করি, তোমরা সব জান্নাতবাসীর এক-তৃতীয়াংশ হবে। বর্ণনাকারী আবু সাঈদ (রা.) বলেন, তখন আমরা এ সংবাদ শুনে আবার আল্লাহু আকবার বলে তাকবির দিলাম। তিনি আবার বলেন, আমি আশা করি, তোমরা সব জান্নাতির অর্ধেক হবে। এ কথা শুনে আমরা আবারও আল্লাহু আকবার বলে তাকবির দিলাম। তিনি বলেন, তোমরা তো অন্য মানুষের তুলনায় এমন, যেমন সাদা ষাঁড়ের দেহে কয়েকটি কালো পশম অথবা কালো ষাঁড়ের শরীরে কয়েকটি সাদা পশম। (বুখারি, হাদিস : ৩৩৪৮)

আগুন নেভানোর ক্ষেত্রে আল্লাহু আকবার সাহায্য করে

হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, ‘যখন তোমরা কোনো জায়গায় আগুন লেগে গেছে দেখো, তখন আল্লাহ আকবার বলতে থাকো। কেননা তাকবির আগুন নেভাতে সহায়ক।’ আরেক বর্ণনায় এসেছে,