হাদিসুরের বাড়িতে মানুষের ঢল, সকালে দাফন

ইউক্রেনে রুশ বাহিনীর রকেট হামলায় নিহত ‘বাংলার সমৃদ্ধি’ জাহাজের প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান আরিফের (৩৪) মরদেহ দেশে পৌঁছেছে।সোমবার (১৪ মার্চ) দুপুরে টার্কিশ এয়ারলাইনসের একটি কার্গো বিমান মরদেহটি নিয়ে ঢাকায় অবতরণ করে। এরপর মরদেহ হস্তান্তরের পরে দুপুর ২টার দিকে মরদেহ নিয়ে বরগুনার পথে রওয়ানা হয় স্বজনরা।

প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান আরিফ (৩৪) বরগুনার বেতাগী উপজেলার হোসনাবাদ ইউনিয়নের কদমতলা গ্রামের রাজ্জাক হাওলাদারের ছেলে। তিনি বাংলাদেশি জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে প্রকৌশলী পদে কর্মরত ছিলেন।এদিকে হাদিসুরকে শেষবারের মতো দেখতে বেতাগীর হোসনাবাদ ইউনিয়নের তার নিজ বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছে স্বজন, বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশীরা। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও আসছে তার বাড়িতে।

আবেগাপ্লুত স্থানীয়রা জানায়, হাদিসুরের এ মৃত্যু মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে তাদের। এলাকার একজন মেধাবী হারিয়েছেন বলেও জানান তারা।প্রতিবেশী মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, হাদিসুর ছিল গোবরে পদ্মফুল। প্রান্তিক গ্রামে থেকেও আলো ছড়িয়েছে সে। স্কুলজীবন থেকে সে ছিল তুখোড় মেধাবী। তার মৃত্যুতে উজ্জ্বল এক নক্ষত্র খষে পড়ল। আমরা এক নক্ষত্রে হারালাম।

রাত ১০টা নাগাদ হাদিসুরের মরদেহ নিজ বাড়িতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। আগামীকাল সকাল ১০টায় বাড়ি সংলগ্ন মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তার দাদা-দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।এ বিষয়ে হাদিসুরের চাচা মাকসুদুর রহমান ফোরকান ঢাকা পোস্টকে বলেন, হাদিসুরে মরদেহটি ইতোমধ্যে বরগুনার পথে। রাত আনুমানিক ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার দিকে বাড়িতে পৌঁছাবে। তার দাদা-দাদির কবরের পাশেই জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। কাল জানাজা শেষে সেখানে শায়িত হবে হাদিসুর।

প্রসঙ্গত, গত ২ মার্চ রাতে ইউক্রেনের অলভিয়া বন্দরে আটকেপড়া বাংলাদেশি জাহাজ এমভি বাংলার সমৃদ্ধিতে রকেট হামলা চালায় রুশ সেনারা। এ হামলায় জাহাজের প্রকৌশলী হাদিসুর রহমান আরিফ নিহত হন। পরদিন ৩ মার্চ সন্ধ্যায় অক্ষত ২৮ নাবিক এবং হাদিসুরের মরদেহ ইউক্রেনের একটি বাংকারে নেওয়া হয়। সেখানে হাদিসুরের মরদেহ রেখে বাকি নাবিকদের নিরাপদে রোমানিয়ায় নিয়ে যাওয়া হয়। গত ৯ মার্চ দুপুর ১২টার দিকে তারা দেশে ফিরেছেন।